লেখার নীতিমালা এবং গাইডলাইন

বিসিবি বিজ্ঞান সংবাদে লিখতে চাইলে আমাদের নীতিমালা এবং গাইডলাইন পড়ে দেখুন। এতে আপনার লেখার পথ সহজ হয়ে যাবে। এছাড়া আমাদের টিমে যেকোনো সদস্য যেকোনো সমস্যায় আপনার পাশে রয়েছে। সপ্তাহে অন্তত একটি সংবাদ কভার করার মানসিকতা থাকতে হবে। একটি সংবাদ কভার করতে ৩০ মিনিট থেকে বড়োজোর ৪ ঘন্টা সময় লাগবে। সপ্তাহে এটুকু সময় দেয়ার মানসিকতা না থাকলে বিসিবি বিজ্ঞান সংবাদ টিমে যুক্ত না হওয়া উচিৎ।

তো এখন বিসিবি বিজ্ঞান সংবাদ সাইটে কীভাবে লিখবেন? খুবই সহজ, আপনি চাইলেই আমাদের সাইটে লিখতে পারবেন। কোনো প্রি-টেস্ট কিংবা ধরা-বাঁধা নিয়ম বা প্রসেস নেই কেননা আমাদের সম্পাদক প্যানেল প্রতিটি সংবাদ যাচাই বাঁছাই করে সম্পাদনা করে তারপর প্রকাশ করে। আপনার লিখাটি যথাযথ হলে কোনো বাঁধা ছাড়াই প্রকাশিত হবে। নতুন লেখক কিংবা আগ্রহী সবার জন্য কীভাবে বিজ্ঞান সংবাদ লিখবেন তা নিচে সংক্ষপে আলোকপাত করা হয়েছে। তবে তার আগে কিছু বেসিক কাজ সেরে ফেলা যাক।

লিখতে হলে প্রথমে অবশ্যই আপনাকে বিসিবি বিজ্ঞান সংবাদ সাইটে একাউন্ট খুলতে হবে। এর জন্য এই লিঙ্কের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

বিসিবি বিজ্ঞান সংবাদ নিয়ে কিছু বেসিক কথা:

  • বিসিবি বিজ্ঞান সংবাদে বাংলাদেশ এব সারা বিশ্বের বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সব বিভাগে সম্পর্কৃত সংবাদই লেখা যাবে।
  • বিসিবি বিজ্ঞান সংবাদ একটি বিজ্ঞান সংবাদ বিষয়ক ওয়েবসাইট। তবে এখানে বিজ্ঞান সংবাদ বাদেও মাঝে-মাঝে এক্সক্লুসিভ প্রবন্ধ প্রকাশ করা যাবে (উদাহরণ: আইনস্টাইন কি আসলেই অংকে কাঁচা ছিলেন?)।
  • বিসিবি বিজ্ঞান সংবাদের মূল উদ্দেশ্য সহজ বাংলা ভাষাতে বিজ্ঞান মহলের আপডেট জানানো। এছাড়া বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষা, বিজ্ঞান মনষ্কতা তৈরি, বিজ্ঞান আন্দোলন ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাঙের ছাতার বিজ্ঞানের এই প্রজোক্ট ভূমিকা রাখতে চায়।
  • ধর্ম বা রাজনীতি বিষয়ক কথা নিউজে উল্লেখ করে সংবাদ প্রবন্ধ এখানে প্রকাশ করা যাবে না। তবে দেশের প্রযুক্তি নির্ভর সংবাদ এবং সরকার নির্ভর কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর করা কোনো সংবাদে দেশের সরকারের কাজ, কথা উল্লেখ করতে পারবেন।
  • লেখার আকারের কোনো ধরা-বাঁধা নিয়ম নেই তবে চেষ্টা করবেন ন্যূনতম ৪০০-৫০০ শব্দ যাতে হয়।
  • লেখার বানান ভুল ঠিক করার জন্য সতর্ক থাকতে হবে।

লেখা গঠন এবং জমা প্রদান

বিসিবি বিজ্ঞান সংবাদের প্রতিটি লেখা সম্পাদক দল দ্বারা প্রুভরিড, ফ্যাক্টচেক এবং সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয়। সরাসরি প্রকাশের সুযোগ নেই। তবে হ-য-ব-র-ল লেখা সম্পাদক প্যানেল সম্পাদনা করে প্রকাশ না করে রিজেক্ট করে দিবে। অতএব লেখার প্রতি যত্নশীল হতে হবে। সম্পাদকরা লেখা সাবমিট হয়েছে এটা জানানোর পর সাধারণত ১৫ থেকে ৫০ মিনিট নিয়ে থাকেন। নিচে বিজ্ঞান সংবাদ লেখা থেকে শুরু করে জমা দেয়া পর্যন্ত একটি সাধারণ গাইডলাইন তুলে ধরা হলো।

বিজ্ঞান সংবাদ লেখার গাইডলাইন

লেখালেখি আসলে একটা নিজস্ব আর সৃজনশীল কাজ। কীভাবে লিখতে হয় সেটার ধরা-বাঁধা কোন নিয়ম আসলে নাই। কিন্তু বিজ্ঞান সংবাদ লেখার ক্ষেত্রে লেখার গঠনকে মোটামুটি ছাঁচে ফেলা যায়। নতুন যারা লিখতে চায় তারা অনেক সময় বুঝতে পারে না কীভাবে শুরু করবে। আমি (তানভীর রানা রাব্বি) বিসিবি বিজ্ঞান সংবাদের প্রধান সম্পাদক হিসেবে প্রথম থেকেই রয়েছি। নিজেও সংবাদ লিখি মাঝে মাঝে এং সবার সাবমিট করা লেখা ঠিক-ঠাক করে প্রকাশ করি। তো বিজ্ঞান সংবাদ লিখতে এবং সম্পাদনা করতে গিয়ে বেশ কিছু গবেষণা পত্রের প্রেস রিলিজ, সেসব গবেষণা পত্র, সে সম্পর্কৃত নিবন্ধ, খবর ইত্যাদি পড়া হয়েছে। এবং আমার সামান্য অভিজ্ঞতা থেকে যতটুকু বুঝতে পেরেছি তা দিয়ে নতুন যারা তাদেরকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে এই সংক্ষিপ্ত গাইডলাইনটি লিখছি।

লেখা সংগ্রহ

বিজ্ঞান সংবাদ সংগ্রহ করা বেশ কঠিন কিছু না। বিশ্বের বড়-বড় বিজ্ঞান সংবাদ প্রকাশ করে জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক মাধ্যমগুলো। তবে বিজ্ঞান মহলের খুঁটিনাটি বিভিন্ন খবর প্রকাশের জন্য বেশ কিছু ডেডিকেটেড ওয়েবসাইট রয়েছে। সেসব সাইট থেকে খুব সহজেই বিজ্ঞান সংবাদ বা বিজ্ঞান মহলের আপডেট জানা সম্ভব। বেশ কিছু জনপ্রিয় ডেডিকেটেড বিজ্ঞান সংবাদের সাইট তুলে ধরা হলো। তবে বাংলাদেশের গবেষকদের দেশে করা গবেষণার সংবাদের তেমন কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই। সেক্ষেত্রে নিউজ টিম সংগ্রহ করে প্রদান করবে। আর প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদের কথা এখানে উল্লেখ করা হয় নি।

ScienceDaily (https://www.sciencedaily.com)

১৯৭৫ সালে আত্নপ্রকাশ ঘটে সায়ন্সডেইলির। সায়েন্স ডেইলিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা সংস্থাগুলির জ্যোতির্বিজ্ঞান থেকে প্রাণীবিদ্যা পর্যন্ত সবগুলোর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং গবেষণার বিষয়ে ব্রেকিং নিউজ প্রকাশ করে থাকে। এরা মুলত শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রেস রিলিজের লেখা নিয়ে তাদের সাইটে দেয়। অনেকটা আর্কাইভ করে রাখার মতো কাজ করে। এদেনর এডিটর টিম প্রকৃত পক্ষে নেই। যাঁচাই করে প্রকাশ করে থাকে। গড়ে প্রতিসপ্তাহে ৩০ টির মতো বিজ্ঞান সংবাদ প্রকাশ করে। এরা বেশ নির্ভবযোগ্য এবং সহজেই সংবাদ সংগ্রহ করার এক দারুণ মাধ্যম।

ScienceAlert (https://www.sciencealert.com)

২০০৬ সালে প্রাক্তন মাইক্রোসফট প্রোগ্রামার ক্রিস ক্যাসেলার হাত ধরে সায়েন্সঅ্যালার্টের যাত্রা শুরু হয়। প্রতি মাসে সায়েন্সঅ্যালার্ট সময়োপযোগী এবং বিশ্বস্ত বিজ্ঞানের সংবাদ প্রকাশ করে। এরা স্বাধীনভাবে পরিচালিত অনলাইন বিজ্ঞান সংবাদ মাধ্যম, এবং এদের অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলির পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে নতুন আবিষ্কার, রহস্য এবং বিস্ময়ের উপর আলোকপাত করেন। এরা মুলত ১১ জনের দল দ্বারা পরিচালিত এবং এর ইন-হাউজ লেখ নিউজ সহজভাবে বিস্তারিত লিখে প্রকাশ করে। সরাসরি প্রেস রিলিজের কোনো সংবাদ না।

Phys.org (https://www.phys.org)

২০০৫ সালে যুক্তরাজ্য প্রতিষ্ঠিত Phy.org মুলত সংবাদ সংগ্রাহক। এরা বিভিন্ন গবেষণা, রিপোর্ট, ব্রিফ ইত্যাদির বিভিন্ন প্রেস রিলিজ এবং সংবাদ সংস্থা থেকে সংগ্রহ করে প্রকাশ করে। যদিও এরা জার্নাল রিপোর্টের সংক্ষিপ্তসার এবং নিজস্ব বিজ্ঞান সাংবাদিকতা চর্চাও করে। এরা সব ধরণের বিজ্ঞান সংবাদ কভার করে থাকে। এমনকি এদের চিকিৎসাবিজ্ঞান এং প্রযুক্তি বিষয়ক ডোডিকেটেড সংবাদ ওয়েবসাইট রয়েছে। তাই বিজ্ঞান সংবাদ সংগ্রহের খুব ভালো একটু মাধ্যম phys.org. এরা অনেক দ্রুত সংবাদ প্রকাশ করে থাকে; ক্ষুদ্র থেকে বড় সংবাদ মমেত।

Science News Magazine (https://www.sciencenews.org)

১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ম্যাগাজিনটির সাইট সায়েন্সনিউজ.অর্গের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। সায়েন্স নিউজ ম্যাগাজিনের অনলাইন সাইট বিজ্ঞানের সমস্ত শাখায় দৈনিক সংবাদ, ব্লগ, ফিচার গল্প, পর্যালোচনা এবং আরও অনেক কিছু প্রকাশ করে। সেই সাথে এদের রয়েছে ১২২৪ সাল থেকে আর্কাইভসমগ্র। এদের প্রকাশিত প্রতিটি সংবাদ খুব নিখুঁত এবং এদের অভিজ্ঞ রাইটারদের দ্বারা লেখা এবং সম্পাদনা করা হয়। বিজ্ঞান সংবাদের বেশ অসাধারণ সংগ্রহ রয়েছে এদের। sciencenewsforstudents.org ও পরিচালিত হয় এদের দ্বারা।

New Scientist Magazine (https://www.newscientist.com)

বিশ্বের নাম্বার ওয়ান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ম্যাগাজিন খ্যাত নিউ সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন। এদের ওয়েবসাইট বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মহলের ব্রেকিং নিউজ, এক্সক্লুসিভ কন্টেন্ট এবং যুগান্তকারী প্রবন্ধ পাওয়ার জন্য গো-টু স্টপ। বেশ ভালো জ্ঞানের উৎস হিসেবে কাজে লাগতে পারে।

EurekAlert! (https://www.eurekalert.org)

১৯৯৬ সালে American Association for the Advancement of Science (AAAS) প্রতিষ্ঠিত সম্পাদকীয়ভাবে স্বাধীন এই অলাভজনক সংবাদ বিতরণ সেবা প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সকল ক্ষেত্রের হালনাগাদ খবর প্রকাশ করে থাকে। বিজ্ঞান সংবাদ পাওয়ার জন্য বেশ ভালো মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

SciTechDaily (https://scitechdaily.com)

সাইটেকডেইল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৮ সালে ভিকি হাইডের হাত ধরে। এটা সায়েন্সডেইলি, ফিজস.অর্গ এর মতোই। তবে এদের এডিটোরিয়াল বোর্ড প্রেস রিলিজগুলো খুব ভালোভাবে যাচাই কর দেখে।

এছাড়াও বিজ্ঞান সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য রয়েছে অনেক সাইট, নিচে আরো কিছু উল্লেখ করা হলো।

এসকল সাইট থেকে সংবাদ আপনার ইচ্ছামত নির্বাচন করতে পারবেন। কিংবা আপনি বিসিবি সংবাদ টিমে যুক্ত সদস্যের থেকে পরামর্শ নিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন। সংবাদ নির্বাচন করার পর আপনি টিমের গ্রুপে সংবাদের লিঙ্ক দিয়ে জানাবেন যে আপনি এটা লিখছেন। তখন সম্পাদক দলের একজন আপনার নাম এবং লেখার টপিক একটি স্প্রেডশিটে তুল রাখবেন। আপনি কত সময়ের মধ্যে দিতে পারবেন, সে হিসেবে ডেডলাইন দেয়া হবে।

গবেষণা

বিজ্ঞান সংবাদ লেখার ব্যাপারে এই বিষটা খুবই সামান্য। গবেষণাপত্র পড়তে পারেন, চাইলে নাও পড়তে পারেন। তবে বেশিরভাগ গবেষণাপত্রই কঠিন ভাষাতে লেখা থাকে। নতুন লেখকের নিজের ইচ্ছা থাকলে পড়ে দেখতে পারেন। সংবাদ লেখার কাজের জন্য প্রেস রিলিজ থেকেই মোটামুটি গবেষণা নিয়ে ধারণ পাওয়া যায়। যেসব গবেষণার প্রেস রিলিজ নেই সেগুলা পড়া যেতে পারে। উদাহরণস্বরুপ: আমাদের ওয়েবসাইটে ‘বাংলাদেশ’ নামে একটা সেকশন রয়েছে যেখানে বাংলাদেশের গবেষণার সংবাদ লেখা হয়ে থাকে। আর বাংলাদেশের গবেষণায় প্রেস রিলিজ তুলনামূলক কম। সেক্ষেত্রে গবেষণাপত্র পড়ে সেটার ওপর নিউজ করা যেতে পারে। নতুনদের জন্য সে অংশ আপাতত উপেক্ষা করা যেতে পারে।

লেখার ভাষা

লেখার ভাষা কেমন হবে তা একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম। তবে সংবাদপত্রে লেখার জন্য যে নিয়ম আছে সেটা অনুসরণ করা উচিৎ। অর্থাৎ, নিজের কোনো মন্তব্য তুলে না ধরা (তবে ক্ষেত্রবিশেষ সেটা করা যেতে পারে)। লেখা এমন হওয়া উচিৎ যাতে পাঠক ভাবতে পারে যে কেউ তার সামনে বিজ্ঞানের ‘উক্ত’ গবেষণার বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে দিচ্ছে। টিভিতে সংবাদ দেখে ব্যাপারটা উপলব্ধি করা যেতে পারে যে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়। যেমনটা সংবাদ পাঠক/পাঠিকা টিভিতে উপস্থাপন করে সে ভাষার দিকে নজর দেয়া যাতে পরে।

বিজ্ঞান সংবাদ লেখার ক্ষেত্রে যেহেতু খুব বেশি এরিয়া কভার করতে হয় না। সেজন্য সেটা নিয়ে তেমন খোঁজাখুঁজি করতে হয় না। মূল গবেষণা না পড়েও গবেষনার ওপর প্রকাশিত প্রেস রিলিজ বা উপরে উল্লেখিত সাইগুলোতে প্রকাশিত লেখার প্রেক্ষিতে লেখা যেতে পার। নজর রাখতে হবে যাতে লেখাতে মুল বক্তব্যটি ফুটে ওঠে। এছাড়া প্রেস রিলিজ বা উপরে উল্লেখিত সাইগুলোতে প্রকাশিত লেখা লাইন-বাই-লাইন সরাসরি অনুবাদ করে দেয়া যেতে পারে। অপ্রয়োজনীয় লাইন কেটে ফেলা যেতে পারে। কঠিন এক লাইন ভেঙ্গে সরল দুই লাইন করা যেতে পারে। অনুবাদের সময় যেহেতু তথ্যের বর্ণনা ইংরেজি থেকে বাংলাতে অনুবাদের প্রয়োজন পড়ে। অনেকেই এক্ষেত্রে গুগল অথবা মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটরের সাহায্য নেন। এটা খুবই স্বাভাবিক এবং অনুবাদের ক্ষেত্রে নেয়া উচিৎ, কারণ এতে কাজ সহজ হয়ে যায়। তবে আপনি খবর পড়ে, বুঝে নিজের মতো অনুবাদ করে লিখতে পারেন।

অভিজ্ঞতা থাকলে হয়তো দেখবেন গুগল মেশিন অনুবাদ করে, যেটা আক্ষরিক হয়ে যায়, অনেক সময় কোনো অর্থই প্রকাশ করে না। তো এ ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। ইংরেজি আর বাংলায় বাক্যের গঠন খুব ভিন্ন।

I drink water‘ এর অনুবাদ ‘আমি পানি পান করি’। লক্ষ্য করুন বাক্যে ‘water’ ও ‘পানি’ এর অবস্থান ইংরেজি ও বাংলা ভাষাতে ভিন্ন। এবং বাংলাতে ক্রিয়া ‘drink’ কে ‘পান করি’ দুই শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। সুতরাং বিশেষ্য-বিশেষণ ইত্যাদির পারস্পারিক অবস্থান অবশ্যই পরিবর্তন করে নিতে হবে। যাতে বাক্যের আকাঙ্খা, আশক্তি, যোগ্যতা, অর্থ না হারায়।

তাছাড়া ইংরেজিতে প্রচুর দীর্ঘ ও জটিল-যৌগিক বাক্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে বাংলাতে আমরা মূলত সরল বাক্য বেশি ব্যবহার করে থাকি। যেমন:

Humans acknowledge that personality goes a long way, at least for our species; but scientists have been more hesitant to ascribe personality — defined as consistent behavior over time — to other animals.

এই বাক্যটা বেশ জটিল। এটাকে যদি আক্ষরিক অনুবাদ করি তাহলে হয়

মানুষ স্বীকার করে যে ব্যক্তিত্ব অনেক দূর এগিয়ে যায়, অন্তত আমাদের প্রজাতির জন্য; কিন্তু বিজ্ঞানীরা ব্যক্তিত্বকে আরো দ্বিধাগ্রস্ত করেছেন – সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ হিসাবে সংজ্ঞায়িত – অন্যান্য প্রাণীদের প্রতি।

কী হলো এটা? কোনো অর্থ বোঝা যাচ্ছে? যাচ্ছে না। তো বাংলাতে অনুবাদ করার সময় অবশ্যই এটাকে ভেঙে ফেলতে হবে পাঠকের পড়ার সুবিধার জন্য। এর অনুবাদ হতে পারে এমন:

আমরা মানুষরা জানি যে আমাদের সবার মধ্যে আলাদা-আলাদা পারসোনালিটি বা ব্যাক্তিত্ব রয়েছে, অন্ততপক্ষে আমাদের স্যাপিয়ান্স প্রজাতির মধ্যে। ব্যাক্তিত্বকে ‘সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ’ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হলেও বিজ্ঞানীরা এখন এই ব্যাক্তিত্বের সংজ্ঞা দিতে বেশ দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে অন্য প্রাণীর ব্যাক্তিত্ব পর্যবেক্ষণ করার পর।

লক্ষ্য করুন কিভাবে এখানে একটা বড় ইংরেজি বাক্যকে ভেঙে তিনটি সহজ বাংলা বাক্য তৈরি করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদটিকে আরো সহজে লেখা সম্ভব। you get the idea 😉

লেখার সময় বানান নিয়ে সতর্ক থাকুন। লেখা শেষে প্রুফরিড করে দেখুন যে বানান ঠিক আছে কি না। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নির্দেশনা দেখতে পারেন প্রয়োজনে।

[PDF] Promito Bangla Bananer Niyom by Bangla Academy

বিজ্ঞান সংবাদ লেখার ক্ষেত্রে প্রেস রিলিজে গবেষক দলের প্রধান কিংবা সবাই কিছু উদ্ধৃতি দেয়, সেগুলার মধ্যে প্রয়োজনীয় (একাধিক কিংবা একটি) সরাসরি অনুবাদ করে তুলে ধরলে লেখাটি বেশ আকর্ষনীয় হয়। আপনি আমাদের সাইটে প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদ দেখলে বুঝতে পারবেন।

ছবি

লেখাতে ছবি যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি বিজ্ঞান সংবাদে ছবি কমপক্ষে দুটি থাকা উচিৎ। একটি ফিচার ছবি আরেকটি লেখার মাঝে। লেখার মাঝে একাধিক ছবি যুক্ত করা যেতে পারে এতে পাঠকের মনোযোগ বেশি থাকে পড়ার সময়। ছবি সরাসরি সাইটে আপলোড করতে হবে। এবং ছবিতে অবশ্যই ক্যাপশন দিতে হবে এবং সাথে ছবির ক্রেডিট।

নীল তীর দিয়ে ‘ক্যাপশন’ দেখানো হয়েছে “আবারও মুরগির আকৃতির ডায়নোসরের সন্ধান পেল বিজ্ঞানীরা” শীর্ষক সংবাদ প্রবন্ধের মাঝের ছবি।

কীভাবে দিবেন তা এখান থেকে দেখতে পারেন।

ফরম্যাট

লেখা প্রকাশের আগে সুন্দর করে ফরম্যাট করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটা ভালো ফরম্যাটের লেখা পাঠকের পড়ার কাজটা অনেক সহজ করে দেয়। নিউজের ক্ষেত্রে ফরম্যাটিং খবই সাধারণ। এক্ষেত্রে ছবির বর্ণনা, উদ্ধৃতি, গুরুত্বপূর্ণ কিওয়ার্ড বোল্ট, বৈজ্ঞানিক নাম এবং জর্নালের নাম ইটলিক ইত্যাদি মাথায় রাখতে হবে। কীভাবে লেখা ফরম্যাটেং করবেন সেটা দেখুন এখান থেকে

শিরোনাম এবং সাবটাইটেল

বিসিবির নিউজ সাইটে শতাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। দেখা গেছে প্রায় প্রত্যাকটি লেখার শিরোনাম এবং সাবটাইটেল আমাকে আবার নিজে থেকে দিতে হয়েছে। প্রথমে শিরোনাম থেকে কথা বলা যাক। আরাফাত ভাইয়ের লেখা অংশ থেকে একটু উদাহরণ তুলে ধারা যাক।

বিসিবি বিজ্ঞান সংবাদ লিখতে গিয়ে এ কী করলেন সিনিয়র এডিটর তারারা (ভিডিও সহ)

বুঝতে পারছেন যে এটা মূলত ক্লিক-বেইট। অর্থাৎ সংবেদনশীল শিরোনাম লেখা হয়েছে যেটার উদ্দেশ্যই হলো পাঠককে ক্লিক করানো। ডিজিটাল মার্কেটার, স্প্যামারদের জ্বালায় এই ধরণের টাইটেল বা শিরোনাম এখন আমরা এড়িয়েই চলি। কিন্তু এমন না যে সেখান থেকে শেখা যাবে না।

বিসিবি বিজ্ঞান সংবাদের বয়স পাঁচ মাসও পূর্ণ হয় নি [আক্টোবর, ০৬, ২০২১ পর্যন্ত]। তো আমাদের নিউজ সাইটে তথ্যের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে পিওর বিজ্ঞান সংবাদ সাইট হলেও আমাদের ভিজিটর বেশ কম। কিন্তু তারপরও আপনি অনেক যত্ন নিয়ে একটা সংবাদ কভার করলেন। তারপর সেটা ব্লগে সুন্দর করে ফরম্যাটিং করলেন। তারপর লেখাটা ফেসবুকে ব্যাঙের ছাতার বিজ্ঞান BCB গ্রুপের শেয়ার করে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকলেন পাঠকদের মাঝে পৌঁছানোর জন্য। কিন্তু হয়তো একটা ভালো শিরোনামের অভাবে উদ্দীষ্ট পাঠকরা বুঝতেই পারলো না লেখাটা কি নিয়ে।

আমি নিজেও জানি না কীভাবে ভালো বিজ্ঞান সংবাদের শিরোনাম লিখতে হয়। তাছাড়া কোন গোপন নিয়ম নেই। কিন্তু ভালো শিরোনামের দুয়েকটা বৈশিষ্ট্য বোঝা যায়।

প্রথমত:, শিরোনাম এক লাইনেই একটা গল্প বলবে, পড়লেই বোঝা যাবে সংবাদটা আসলে কী নিয়ে।
দ্বিতীয়ত:, সেটা পাঠককে কৌতুহলী করে তুলবে খুলে দেখতে যে আসলে সংবাদটা কী নিয়ে!

আমাদের সাইটে ঘুড়লে বেশ কিছু লেখার শিরোনাম দেখলে একটা আন্দাজ নিতে পারবেন। এছাড়া প্রেস রিলিজের সংবাদ শিরোনাম থেকে ধারণ নিতে পারেন। শিরোনাম ভালো করে লেখা উচিৎ লেখা শেষ করার পর।

এবার আসি সাবটাইটেল নিয়ে। আমাদের শিরোনামের ফলে পাঠকের যে কৌতুহল তৈরি হবে সেই কৌতুহলের কিছুটা উত্তর থাকবে সাবটাইটেল। এতে পাঠকের পুরোটা পড়ে জানার আগ্রহ তৈরি হবে। নিজের উদাহরণটি দেখা যেতে পারে।

(১) শিরোনাম; এখানে এক লাইনে মোটামুটি গল্প কভার করা গেছে। এতে পাঠকের কৌতুহল তৈরি হবে, তখন সে লিঙ্ক ডুকবে “সত্যিই? কীভাবে?” ইত্যাদি উত্তর জানার জন্য । (২) সাবটাইটেল; এটা পড়ার পর পাঠকের মিরোনামের লেখাকে অসত্য মনে হবে না। তখন বিস্তারিত জানার জন্য মূল লেখাটি পড়ার আগ্রহ বাড়বে এবং পড়বে।

উপরের ছবিটি একটি মাত্র উদাহরণ। তবে মাঝে একদম মাঝে ক্লিকবেইট শিরোনামের প্রয়োজন রয়েছে ;)। ক্লিক-বেইট নিয়ে নিচের veritasium -এর ভিডিওটি দেখা যেতে পারে।

রেফারেন্স দেওয়া

বিজ্ঞান সংবাদে মূল রেফারেন্স তো শুধুমাত্র দুইটি; একটি প্রেস রিলিজের লিঙ্ক আরেকটি গবেষণা পত্রের লিঙ্ক। বিসিবি বিজ্ঞান সংবাদে শেষে আমরা সাধারণত “গবেষণাপত্র:>বোল্ট অক্ষরে জার্নালের আর্টিকেল টাইটের>কম>ইটালিক অক্ষরে জার্নালের নাম>(>ইংরেজি সাল>)>ডট”>লাইনব্রেক>DOI:>DOI নম্বর (নম্বরের সাথে জার্নালের হাইপালিঙ্ক” ফরমেটে গবেষণাপত্র লিখে থাকি। নিচের উদাহরণটি দেখুন।

=====

গবেষণাপত্র: Metagenome-Wide Analysis Rural and Urban Surface Waters and Sediments in Bangladesh Identifies Human Waste as a Driver of Antibiotic Resistance, mSystems (2021).

DOI: 10.1128/mSystems.00137-21

=====

যেসকল সংবাদ গবেষণাপত্র ভিত্তিক না। সেসকল সংবাদের পেপার উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। গবেষণাপত্র থাক বা না থাক লেখার একদম শেষে সুত্র (যেখানার লেখার ওপর ভিত্তি করে লেখা বা অনুবাদ করা হয়েছে) উল্লেখ করতে হবে। সেটা ঔচ্ছ্যিক, তবে উল্লেখ করাই শ্রেয়। সেক্ষেত্রে শুধু লিঙ্ক দিয়ে রাখলেই এডিটর নিচের মতো ফরমেট করে দিবে।

লেখার মাঝে বিভিন্ন তথ্যের সূত্র সরাসরি হাইপারলিঙ্ক আকারেই দেয়া যায়। যেমন; কোনো বৈজ্ঞানিক টার্মের সাথে উইকিপিডিয়ার লিঙ্ক দেয়া যেতে পারে হাইপারলিঙ্ক আকারে যাতে লেখক সহজে সেটা সম্পর্কে এবং সুনির্দিষ্ঠভাবে জানতে পারে। আবার কোনো বিজ্ঞান/গবেষকের নামে তার সম্পর্কৃত তথ্য সমৃদ্ধ কোনো ওয়েব পেইজের লিঙ্ক হাইপারলিঙ্ক আকারে দেয়া যেতে পারে। নিচের উদাহরণটিদেখা যেতে পারে।

এখানে প্রতিষ্ঠানের নাম। গবেষকদের প্রোফাইল (প্রতিষ্ঠানের হতে পারে, গুগল স্কলারের হতে পারে, নিজের অথেনটিক টুইটার, ফেইসবুক একাউন্ট হতে পারে) এবং গবেষনাপত্রের হাইপারলিঙ্ক করা রয়েছে।
এখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধিত এবং বৈজ্ঞানিক টার্ম সম্পর্কে জানার জন্য সেসকল শব্দে হাইপারলিঙ্ক করা হয়েছে।

এছাড়া কোনো লেখার মাঝে যদি সাইটে ইতোমধ্যে রয়েছে এমন কোনো লেখার কিছু থাকে তাহলে সেটা হাইপার লিঙ্ক করা যেতে পারে। কিংবা নিজের লেখার প্রচারের জন্য নিচের আগের লেখা বোল্ড আকারে “আরো পড়ন: [শিরোনাম]” ফরমেটে উল্লেখ করা যেতে পারে নিচের ছবির মতো। কীভাবে করা যায় তা এখান থেকে দেখে নিতে পারেন।

২০৫০ সালের মধ্যে গড় প্লাস্টিক ব্যবহার শূন্যে নিয়ে আসা সম্ভব! শিরোনামে লেখার মধ্যে “দেশি মাছের পেটে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা” শিরোনামের লেখা হাইপারলিঙ্ক করা।
মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার” শিরোনামের লেখার একটি অংশে “আরো পড়ুন:” হিসেবে “বিজ্ঞানীরা নতুন এক শ্রেণির স্নায়ুকোষ আবিষ্কার করেছেন যা মুখমণ্ডল মনে রাখার কাজ করে” লেখাটি হাইপার লিঙ্ক করা।

ফিচার ছবি

ফিচার ছবি দেয়া বেশ গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞান সংবাদের ফিচার ছবি সাধারণত নিউজ রিলিজ থেকে সংগ্রহ করা যায়। ফিচার ছবির ক্যাপশনে ছবির বর্ণনা এবং তার সাথে ছবির সোর্স উল্লেখ করতে হবে। কীভাবে করবেন না এখানে দেখুন। উদাহরণস্বরুপ নিচের ছবিটি দেখা যেতে পারে।

ছবির লেখার সোর্স

শেষ কাজ

এসকল কাজ শেষে লেখা জমা দিলে একজন সম্পাদক আপনার লেখাটি রিভিউ করে তারপর সাইটে পাবলিস্ট করে দিবে। এবং গ্রুপে আপনাকে জানিয়ে দেয়া হবে। তারপর সেই লেখাটি আপনাকে ব্যাঙের ছাতার বিজ্ঞান গ্রুপে পোস্ট করতে হবে।

যদি বরাবর আপনার লেখা, ফরমেটিং এবং বাকি সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে ৫টি লেখে প্রকাশের পর আপনাকে লেখার পর সাবমিটের সাথে-সাথে অর্থাৎ তৎক্ষণাৎ সরাসরি সংবাদ প্রকাশের জন্য মনোনীত করে হবে। এবং আপনার পারফরম্যান্সে নজর রাখা হবে এবং সেটি বারংবার ভালো থাকলে আপনাকে সম্পাদক হিসেবে রিক্রুট করা হতে পারে।

এটুই মূলত সাধারণ নির্দেশনা। নির্দেশনাটা মুলত টেকনিক্যাল। তবে এরপরও যেকোনো সমস্যা, পরাশর্শ আমার নিউজ টিমের যেকোনো সদস্য কিংবা আমার সাথে কথা বলতা পারেন।

 

ধন্যবাদ
তানভীর রানা রাব্বি
সম্পাদক, বিসিবি বিজ্ঞান সংবাদ

তারিখ: ৬ই অক্টোবর, ২০২১

Welcome Back!

Login to your account below

Create New Account!

Fill the forms bellow to register

*আমাদের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করার মাধ্যমে আপনি আমাদের শর্তাবলী এবং গোপনীয়তা নীতিতে সম্মত হন।

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

বিজ্ঞান সংবাদ আপনি কি নিয়মিত বিজ্ঞান সংবাদ পেতে চান? No Yes